পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও হামের নজিরবিহীন জোড়া প্রাদুর্ভাবে কার্যত ধসে পড়ার মুখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা। পদ্মাপাড়ের হাসপাতালগুলিতে উপচে পড়া ভিড়ের জেরে তীব্র শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে, রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগের দিনই চলতি বছরের একদিনের সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছিল।
এই নিয়ে চলতি বছর দেশটিতে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮৯ জনে এবং মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ হাজার ২১৬ জন। শুধু অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ডেঙ্গুতে ৪৪ জন এবং গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।অন্য দিকে হামের পরিস্থিতিও আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দু’জন নিশ্চিত হামে এবং চারজন উপসর্গে মারা গিয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৬ জন অর্থাৎ মোট ১,১৪০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬৭৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৭৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মহম্মদ ইউনূসের কার্যকালে টিকাকরণ কর্মসূচিতে চরম গাফিলতি এবং ইউনিসেফের বদলে অচেনা সংস্থা থেকে আনা অকার্যকর টিকার কারণেই সিংহভাগ শিশু সুরক্ষাহীন অবস্থায় ছিল, যার খেসারত দিতে হচ্ছে এখন। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ঢাকা-সহ জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত শয্যা, ডায়াগনস্টিক কিট, স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে। এ দিন ঢাকার বনানীর কড়াইলে চলমান হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গিলান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মহম্মদ আবদুল মুহিত এবং সিটি কর্পোরেশনের পদস্থ আধিকারিকেরা।