পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :

জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অবস্থান কি এক? কর্ণাটক হাইকোর্টে এই প্রশ্নকে ঘিরে শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্ক। আদালতে কর্ণাটক সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীতের মতো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কোনও পৃথক আইনি বিধান নেই। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান পরিবেশন নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে রাজ্যের এই অবস্থান সামনে এসেছে।


কর্ণাটক সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গান হিসেবে মর্যাদাপ্রাপ্ত হলেও জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যে ধরনের নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ প্রোটোকল রয়েছে, তার সঙ্গে একে এক করে দেখা যায় না। ফলে কোথায়, কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে, সেই বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন রয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে কর্ণাটক সরকারের ৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ। ওই নির্দেশে সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক পরিবেশনের কথা বলা হয়েছিল।
তবে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা রাজ্যপাল উপস্থিত থাকলে প্রোটোকল ভিন্ন হতে পারে বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আবেদন করা হয়। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, জাতীয় গানের পরিবেশনের ধরন নিয়ে রাজ্য সরকার কতটা নির্দেশ দিতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্তরে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে জারি করা নির্দেশের সঙ্গে কর্ণাটকের নির্দেশের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। জাতীয় গান সংক্রান্ত ২০২৬ সালের সংশোধনী আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৃথক মামলা বিচারাধীন। সেই কারণে কর্ণাটক হাইকোর্ট আপাতত মামলাটির মূল প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ফলে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কটি শুধু একটি গান গাওয়া বা না-গাওয়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় গানের ব্যবহার, বাধ্যবাধকতার আইনি ভিত্তি এবং কেন্দ্র-রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা—সবকিছুই এখন বিচারবিভাগের আলোচনায়। মামলাটি তিন সপ্তাহ পরে ফের শুনানির জন্য উঠবে।