পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকায় নাম তোলার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি কমিশন জানিয়েছিল, বর্তমানে যে গতিতে ট্রাইবুনালের কাজ চলছে তাতে সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হতে অন্তত ১২ বছর সময় লাগবে। এই দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতেই রাজ্যে বর্তমানে থাকা ১৯টি ট্রাইবুনালের সংখ্যা একধাক্কায় বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রাজ্যের প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য একটি করে ট্রাইবুনাল গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


তবে শুধু ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যও নিচ্ছে কমিশন। জানা গিয়েছে, শুনানির জন্য একটি বিশেষ ‘লোকেশন-অ্যাগনস্টিক’ সফটওয়্যার নিয়ে আসা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের আর নির্দিষ্ট ভবনে বসে কাজ করতে হবে না। তাঁরা যে কোনও জায়গা থেকে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল শুনানি করতে, প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করতে এবং আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিতে পারবেন।
কমিশনের দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে শুধু সময়ই বাঁচবে না, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সম্ভব হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একের পর এক আবেদন ও আইনি জটিলতায় কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে কমিশনকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই মূলত এই পদক্ষেপ। তবে ভোটার তালিকার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং নাগরিকের ভোটাধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বিষয়ে এমন ভার্চুয়াল শুনানি কতটা স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন ট্রাইবুনাল বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর এই শুনানির প্রস্তাব নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব মহল।