পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার আবহ তৈরি হতেই রান্নার গ্যাসের যোগান নিয়ে দেশজুড়ে নানা জল্পনা ডালপালা মেলেছিল। তবে বাজারে রান্নার গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং দেশের চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদন অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি গুজব ছড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেন।ভুল তথ্য ও গুজবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারি এবং মজুতদারি রুখতেই সরকার সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি এনেছিল বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
হরমোজ প্রণালীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তবে এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়েছে। উৎপাদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পূর্বের দৈনিক উৎপাদন ৩৪,০০০ টন। বর্তমান দৈনিক উৎপাদন ৫৫,০০০ থেকে ৫৬,০০০ টন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ১.০৭ লাখ পেট্রোল পাম্প এবং ডিস্ট্রিবিউশন কেন্দ্রে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজির কোনো ঘাটতি হয়নি। গ্যাসের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন তিনি। বর্তমানে ডিজিটাল বুকিংয়ের সুবাদে ঘরে বসেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার হাতে পাওয়া যাচ্ছে। অযথা গুজবের কারণে কীভাবে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়েছিল, তার একটি উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, গুরুগ্রামের এক পরিচিত পরিবার পাইপড গ্যাস সংযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘাটতির আতঙ্কে অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করছিলেন।
স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় হঠাৎ করে এলপিজির চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বণ্টন ব্যবস্থা সুসংহত করতে বাধ্য হয় সরকার। গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে হরদীপ সিং পুরী ব্যঙ্গ করে বলেন, "গুজব ছড়ানোর সরবরাহে দেশে কোনো ঘাটতি নেই, তবে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে।"