পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে টানা তিন দিনের ব্যাংক ধর্মঘট। এর আগে ২৬ তারিখ চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ তারিখ রবিবার হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের আগে রবিবার, অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এবং গ্রামীণ ব্যাংক খোলা থাকবে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) ইতিমধ্যেই ওই দিন ব্যাংকের শাখা, অফিস, এটিএম এবং কারেন্সি চেস্ট খোলা রাখার ছাড়পত্র দিয়েছে।

ফলে টানা পাঁচ দিনের অচলাবস্থা এড়াতে এবং জরুরি কাজ সেরে নেওয়ার জন্য গ্রাহকেরা অতিরিক্ত এক দিন সময় পাবেন।

মূলত সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাংক কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়ন্স (ইউএফবিইউ)। এছাড়াও পেনশন পরিকাঠামোর উন্নতি, সব পেনশনভোগীর জন্য অভিন্ন মহার্ঘ ভাতা এবং এনপিএস থেকে পুরোনো পেনশন প্রকল্পে (ওপিএস) ফেরার দাবিও জানিয়েছে তারা। মঙ্গলবার ডেপুটি চিফ লেবার কমিশনারের সঙ্গে কর্মী সংগঠনগুলির একটি আপস বৈঠক হলেও তা অমীমাংসিতই থেকে যায়।

ইউএফবিইউ জানিয়েছে, সরকার পাঁচ দিন কাজের দাবি পূরণে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করলে তবেই তারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

অন্যদিকে, এই ধর্মঘটের দিনগুলিতে গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইউপিআই এবং এটিএম-এর মতো ডিজিটাল মাধ্যমগুলি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকগুলির অর্ধবার্ষিক ক্লোজিংয়ের দিন। এই বিশেষ দিনে ব্যাংক ধর্মঘট বজায় থাকলে তা হিসাবনিকাশ এবং ট্রেজারি পরিচালনার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে গ্রাহক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে।