ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসংগতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দিল্লির এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত কমিশনকে নোটিস দিয়ে এ বিষয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ভোটারের বর্তমান তথ্যের সঙ্গে আগের ভোটার তালিকার তথ্যের মিল না থাকলে বা কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে, সেই ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ শ্রেণিতে রাখা হচ্ছে। দিল্লিতে এই ধরনের কারণ-সহ ৩৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৪৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে।
আরও পড়ুন:
মামলাকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নোটিসে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বলা হলেও ঠিক কোন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে কী বিষয়ে ব্যাখ্যা বা কোন নথি জমা দিতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এমনকি ইতিমধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়ে বয়স ও বসবাসের প্রমাণ দেওয়া ভোটারদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত নথি চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন:
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও জানতে চায়, নোটিসে ভোটারকে ঠিক কী বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে কি না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, অনেক নোটিসই যেন যান্ত্রিকভাবে পাঠানো হয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠানোর আগে আরও কিছু ‘ফিল্টার’ ব্যবহার করা প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেন।আরও পড়ুন:
কমিশনের পক্ষে জানানো হয়, নোটিসে কারণ উল্লেখ করা থাকে এবং সেখানে দেওয়া ১২ ধরনের নথির তালিকাটি সম্পূর্ণ নয়। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লির মতো শহরে বহু মানুষ অন্য রাজ্য থেকে এসে বসবাস করেন। তাই আগের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম কোথায় ছিল, তা যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে, যাতে একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় ভোটার হিসেবে নাম না থাকে।
আরও পড়ুন:
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়াতেও ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। দিল্লির মামলায় এবার শীর্ষ আদালত জানতে চাইছে, ভোটারদের পাঠানো নোটিসগুলি যথাযথ যাচাইয়ের পর দেওয়া হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অসঙ্গতির নির্দিষ্ট কারণ জানানো হচ্ছে কি না।