পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গ্রেপ্তারের কারণ ও তথ্যপ্রমাণ না জানিয়ে কাউকে আটক করা বেআইনি হলে, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে ফের গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশের একচ্ছত্র অধিকারে বড়সড় রাশ টানল শীর্ষ আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সংবিধান লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো ব্যক্তি মুক্তি পেলে, তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে বাধ্যতামূলকভাবে বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট-এর অনুমতি নিতে হবে।

বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা এবং বিচারপতি অতুল চন্দ্রকরের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে স্পষ্ট করা হয়, সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদ কোনো সাধারণ নিয়ম নয়, এটি অত্যন্ত পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়।

অপরাধের গুরুত্ব যতই বেশি হোক না কেন কিংবা UAPA বা PMLA-র মতো কঠোর বিশেষ আইন হলেও গ্রেপ্তারের সঠিক কারণ লিখিতভাবে জানানো আবশ্যিক।

শীর্ষ আদালত তার নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের কারণে কেউ ছাড়া পেলে পুলিশ নিজের মর্জি মতো তাকে আবার গ্রেপ্তার করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে পুলিশকে কঠোর কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তকে পুনরায় গ্রেপ্তারের আগে প্রথমবার গ্রেপ্তারের কারণ কেন লিখিতভাবে জানানো সম্ভব হয়নি, তার সঠিক ও সদুত্তরসহ লিখিত আবেদন বিচারকের কাছে জমা দিতে হবে।

পুলিশের সেই আবেদনের ওপর সংশ্লিষ্ট প্রথম গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষর বা অনুমোদন থাকতে হবে। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ আবেদন মঞ্জুর করার সময়ই ওই মামলার তদন্তভার অন্য কোনো কর্মকর্তার হাতে সমর্পণ করবেন। প্রথমবার সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের পদক্ষেপ বা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁঞা বলেন, "একবার সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হলে, ওই ব্যক্তির ওপর পুনরায় গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আর সেই একই কর্তৃপক্ষের খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। এটি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।" শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে দেশে বেআইনি পুলিশি আটক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বড় ধরনের রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।