পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশের নির্বাচন কমিশনের অন্দরে নজিরবিহীন সংঘাত প্রকাশ্যে এল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্যান্য কমিশনারদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একতরফা ভাবে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কমিশনের অপর দুই সদস্য সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং বিবেক জোশী। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গত দশ মাসে মুখ্য কমিশনারের নেওয়া সিদ্ধান্তে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন ওই দুই কমিশনার, কিন্তু একবারের জন্যও তাঁদের আপত্তিতে আমল দেওয়া হয়নি।
মূলত ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়া সংক্রান্ত এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরেই এই বিবাদের সূত্রপাত। দুই কমিশনারের অভিযোগ, বেআইনি ভাবে নতুন ভোটারদের ফর্ম ৬-এ বদল এনে পিতা বা পিতামহের নামের উল্লেখ করার নিয়ম আনা হয়েছে।
এই অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়েও। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর নাম বাদ ও যুক্ত করা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে ৩৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য কমিশনের হয়ে কে বা কারা এই আবেদনগুলি করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাঁধু। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তিনি, জোশী বা খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কেউই কিছু জানেন না।
সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে মুখ্য কমিশনার একক ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। যাবতীয় সিদ্ধান্ত পারস্পরিক ঐকমত্য অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন নিয়োগ আইনের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল এই তিন কমিশনারকে নিয়োগ করেছিল, যেখানে বিরোধীদের আপত্তি ধোপে টেকেনি। কিন্তু এ বার খোদ কমিশনের অন্দরেই সংবিধান লঙ্ঘনের এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।