যুদ্ধবিধ্বস্ত মায়ানমারে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার অভিবাসীকে দেশে ফেরানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অস্বচ্ছ প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় তাঁদের ফেরানো হয়েছে এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত আদৌ স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন:
রবিবার মায়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে করে প্রত্যাবাসিতদের থানলিন নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের কয়েকটি দলে ভাগ করে অভিবাসন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। মায়ানমার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মোট এক হাজার ৪৭৬ জনকে নিয়ে জাহাজগুলি মালয়েশিয়া থেকে রওনা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, মায়ানমার যে পাঁচ হাজার অভিবাসীকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে, এটি তার প্রথম দল।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু এবং ৭৯ জন নারী রয়েছেন।আরও পড়ুন:
প্রত্যাবাসিতদের কয়েকজন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকার পর তাঁরা দেশে ফিরেছেন। ৫৩ বছর বয়সী কিয়াও সোয়ার থেইন জানান, প্রায় এক বছর আট মাস আটক থাকার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে দেশে ফেরার পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানাতে থানলিন নৌঘাঁটির বাইরে বহু মানুষ জড়ো হন।
তবে অধিকাংশ পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। একজন নৌ কর্মকর্তা জানান, প্রত্যাবাসিতদের প্রথমে ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।আরও পড়ুন:
মায়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘও। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মায়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত অভিবাসীরা সত্যিই স্বাধীনভাবে ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ জেনে নিয়েছিলেন কি না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, দেশে ফেরার পর তাঁদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মায়ানমারের সামরিক দমন-পীড়নের পর বহু রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ায় থাকা মায়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বড় অংশই রোহিঙ্গা হলেও এবারের প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
এদিকে মালয়েশিয়া আরও তিন হাজার পাঁচশোর বেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, মায়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কও সতর্ক করে বলেছেন, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকা একটি দেশে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানোর উপযুক্ত সময় এখন নয়।