পুবের কলম, আহমদাবাদ :
আরও পড়ুন:
গুজরাতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি )-র বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রচার ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের সমন্বয়কারী মঞ্চ। সংগঠনগুলির বক্তব্য, প্রস্তাবিত ইউসিসি )- কার্যকর হলে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রচলিত ব্যক্তিগত আইন প্রভাবিত হতে পারে।
সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইউ সিসি )--এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ধর্মীয় নেতা, আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন জেলায় সভা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, মিছিল এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনি পথেও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, গুজরাত বিধানসভা ২০২৬ সালের মার্চে ইউ সিসি বিল অনুমোদন করে।
নতুন আইনে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ ও লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলিকে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাত । দেশের দ্বিতীয় রাজ্য হিসাবে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যেও চালু হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি । রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলে সই করার পর বিলটি আইনে পরিণত হল। তবে, তফসিলি উপজাতিরা এই আইনের বিধান থেকে বাদ থাকবে।
সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নয়া আইনে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করতে হবে বিয়ে। না করলে তা সরকারি নথি বা চাকরির রেকর্ডে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলবে। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রি করাতে হবে। সমস্ত বিবাহবিচ্ছেদ বা বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া কেবল সিভিল কোর্টের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। পুত্র ও কন্যার জন্য সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকার ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিন কয়েক আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, ২০২৯ সালের আগে এনডিএ শাসিত ২১ রাজ্যেই কার্যকর হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। সেই লক্ষেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটে ওই বিধান কার্যকর হয়ে গেল। মধ্যপ্রদেশ, অসমে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় এই বিল পাশ করে গিয়েছে। বাংলাতেও ইউসিসির বিধান তৈরির জন্য কমিটি গড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।