পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তীতে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় কেন্দ্র ও পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "লাঠি দিয়ে ভিড় আটকানো গেলেও প্রশ্ন তোলা বন্ধ করা যায় না।" একই সাথে সাধারণ মানুষের লড়াই ও আন্দোলনকে এক ছাতার তলায় আনতে 'সত্যাগ্রহ' নামে একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টালের সূচনা করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লির রাজপথে আইসা, এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই-এর মতো একাধিক ছাত্র ও যুব সংগঠন এবং রাজনৈতিক কর্মীরা একযোগে বিক্ষোভে নামেন। ভোটার তালিকা সংশোধন ও 'স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন' (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।
সোশ্যাল মিডিয়া 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের কোণায় কোণায় ছাত্র, যুবসমাজ, কৃষক, আদিবাসী, দলিত ও নারীরা নিজেদের অধিকারের জন্য একাই লড়াই করছেন। কিন্তু একা ওঠা কণ্ঠস্বরকে প্রায়শই দমন করে দেওয়া হয়। রাহুল গান্ধী বলেন, "মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন যে সত্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কিন্তু সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো তার চেয়েও বড় শক্তি। আপনি যদি কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকেন, তবে মাত্র দুই মিনিটে আপনার গল্প পোর্টালে ভাগ করে নিন। মানচিত্রে আপনার লড়াই ফুটে উঠবে এবং আপনার মতো আর কারা লড়াই করছেন তাও দেখতে পাবেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংসদে, রাস্তায় নেমে কিংবা চিঠির মাধ্যমে আপনার পাশে থাকা আমার দায়িত্ব।"
মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাহুল গান্ধী জানান, দেশের সাধারণ মানুষের একক সংগ্রামকে একটি সুসংগঠিত রূপ দিতেই এই 'সত্যাগ্রহ' পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনাকে অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশাসনিক চাপ দিয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত প্রশ্ন করা বন্ধ করা সম্ভব নয়। বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং জনমানুষের তোলার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।