পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার রিকার্ভ তিরন্দাজির মহিলা দলগত ইভেন্টে সোনা জিতে ইতিহাস গড়ল ভারত। শুক্রবার জাপানের ওকাজাকির চুয়ো সোগো পার্ক মাল্টিপারপাস স্কোয়ারে আয়োজিত ফাইনালে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক পদক নিশ্চিত করে ভারতীয় দল। ইতিহাস গড়া এই দলে কুমকুম মোহদ এবং কীর্তি শর্মার পাশাপাশি ছিলেন বাংলার মেয়ে অঙ্কিতা ভকতও।
আরও পড়ুন:
গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী দলের সদস্য অঙ্কিতার কাঁধেই ছিল দুই আনকোরা সতীর্থকে পথ দেখানোর দায়িত্ব। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে সাংহাই বিশ্বকাপে এই শক্তিশালী কোরীয় দলটিকে হারানোর অভিজ্ঞতাই তাঁদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।
এশিয়াড শুরুর আগে জাপানের কুরোব সিটিতে আয়োজিত প্রস্তুতি শিবিরও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেকটাই সাহায্য করেছে। তবে দলগত ইভেন্টে এই অসামান্য সাফল্যের দিনেও ব্যক্তিগত রিকার্ভের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার আক্ষেপ গোপন করেননি অঙ্কিতা। উল্লেখ্য, এদিন রিকার্ভ তিরন্দাজিতে ভারত জোড়া রুপোও পেয়েছে।আরও পড়ুন:
দমদম সিঁথির মোড়ের বাসিন্দা অঙ্কিতার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে চরম প্রশাসনিক হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা। এশিয়াডের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে মেক্সিকো বিশ্বকাপের আগে নতুন পাসপোর্ট পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাঁকে।
জন্ম শংসাপত্রের জটিলতায় প্রায় দু'মাস তাঁর পাসপোর্ট আটকে ছিল। শেষে নিজের পরিচয় দিয়ে ও ফেডারেশনের চিঠি দেখিয়ে ভিসা হাতে পান তিনি। মূল দল মেক্সিকো যাওয়ার চারদিন পর তাঁকে একা রওনা দিতে হয়েছিল।আরও পড়ুন:
দেশের হয়ে এত বড় সাফল্য পাওয়ার পরেও নিজের রাজ্যকে নিয়ে চরম আক্ষেপ রয়েছে বঙ্গকন্যার গলায়। তাঁর ক্ষোভ, দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে এত পদক জেতার পরেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও সম্মান বা সাহায্য তিনি পাননি। যোগ্য সম্মান পেলে তিনি ফের বাংলার হয়েই প্রতিনিধিত্ব করতে চান বলে জানিয়েছেন। আপাতত এশিয়াডের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আগামী অলিম্পিকের ছাড়পত্র পাওয়াই মূল লক্ষ্য অঙ্কিতার।