পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে দীর্ঘ ছ’মাস বন্দি থাকার পর অবশেষে খুন হলেন কলকাতার বাসিন্দা এক নাবিক। নিহত ওই যুবকের নাম মোহম্মদ তানভীর উজ জমান। তিনি কলকাতার ইকবালপুর থানা এলাকার নবাব আলী লেনের বাসিন্দা। বুধবার জাহাজের ক্যাপ্টেনের তরফ থেকে তানভীরের মৃত্যুর খবর তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।


পেশায় জাহাজের রাঁধুনি তানভীর কয়েক মাস আগে সৌদি আরব থেকে একটি তেলবাহী জাহাজে চেপে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। গত এপ্রিল মাসে সোমালিয়া উপকূল পেরনোর সময় জলদস্যুরা জাহাজটি হাইজ্যাক করে। তানভীর-সহ অন্যান্য কর্মীদের বন্দি করা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘ বন্দিদশার পর সম্প্রতি পাটল্যান্ড পুলিশের একটি উদ্ধার অভিযানের সময় জলদস্যুদের হাতে তানভীর-সহ মোট পাঁচ নাবিকের মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্দি থাকাকালীন জলদস্যুরা মাঝে মাঝে তানভীরকে বাড়িতে কথা বলতে সুযোগ দিত। একবার তিনি ভিডিও কলও করেছিলেন। সেই সময় তিনি বন্দিদশায় তাঁদের ওপর হওয়া অকথ্য অত্যাচারের কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। মুক্তিপণ না মেটানোয় তাঁদের খাবার ও জলের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এমনকি নোংরা জলও খেতে বাধ্য করা হত বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের সঙ্গে তানভীরের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে, জলদস্যুদের সঙ্গে জাহাজ সংস্থার আলোচনা এগোচ্ছে এবং দ্রুত মুক্তির আশা রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে আর ঘরে ফিরল না।
তানভীরের বাড়িতে রয়েছেন তাঁর শয্যাশায়ী বৃদ্ধ বাবা মোহম্মদ নুরজামান, মা আনোয়ারা বেগম, স্ত্রী মেহেরাজ আক্তার এবং দিদি রেশমা বিবি। পরিবারের আক্ষেপ, এই চরম বিপদের দিনে তাঁরা সরকারিভাবে বা জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ন্যূনতম কোনও সহযোগিতা পাননি। বর্তমানে ঘরের ছেলের নিথর দেহটুকু যাতে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, সরকারের কাছে সেই কাতর আবেদনই জানিয়েছে শোকস্তব্ধ পরিবার।