পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে রেজিনগরকে ফলতার মতো ‘মডেল’ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরে দলীয় প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিরোধীদের সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নন্দীগ্রাম বা ভবানীপুরের মতোই রেজিনগরকেও তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে দেখবেন। সাধারণ মানুষকে সরাসরি প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে এলাকায় ‘নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি শিল্পতালুক তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি।


এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেজিনগর শিল্পতালুক গড়ার দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং আগামী দেড় বছরের মধ্যে সেখানে কারখানা তৈরির কাজ দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি এলাকার দীর্ঘদিনের পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ভিনরাজ্যে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে আগামী দু’বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হবে এবং স্থানীয়দের জন্য আগামী ছ’মাসে ১২৫ দিনের কাজের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্য সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’-সহ সমস্ত সরকারি সুবিধা কোনও রকম ভেদাভেদ ছাড়া দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিনের সভা থেকে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজনীতিতে যেন আর সত্তর-ত্রিশ বা হিন্দু-মুসলিম তাস না খেলা হয়। নাম না করে স্থানীয় বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে তিনি মন্তব্য করেন, যাঁরা মানুষের মৃত্যু কামনা করেন তাঁদের পতন অনিবার্য। পাশাপাশি তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগের শাসকদল আজ ‘মমতা তৃণমূল’ ও ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’ নামে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নওদার বিধায়ক আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় রেজিনগরে উপনির্বাচন হচ্ছে, যেখানে বিজেপির শাখারভ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হুমায়ুনের পুত্র গোলাম নবী আজাদ এবং মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।