পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এসআইআর ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জোর বিতর্ক চলছে এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, ঠিক সেই আবহেই তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবি জানাল এনসিপিআই। এই মর্মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন দলের সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ কুমারের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসআইআর কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তিকে গুরুত্ব দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

এরপরই তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব হয় কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে হওয়ার কথা। তবে বিরোধীদের এই অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে হেঁটে এনসিপিআই সভাপতি তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় ভোটের সঙ্গে যে সন্ত্রাস, রিগিং ও রক্তপাতের ইতিহাস জড়িয়ে ছিল, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের তৎপরতায় তা দূর হয়েছে। তাঁর বলিষ্ঠ পদক্ষেপের জেরেই সাধারণ মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর ফের আস্থা ফিরে পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এই দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে এনসিপিআই-এর বর্তমান অবস্থান নিয়েও জোর চর্চা চলছে। উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগদান করেন। তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে টানাপোড়েন চলছে। বর্তমানে এনডিএ-র শরিক হিসেবে থাকা এই দলটি আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিজেপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, দলবদল করা ওই ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই পুজোর আগে বা পরে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবেন। বাকি তিন সংখ্যালঘু সাংসদ এনসিপিআই-তেই থেকে এনডিএ জোটকে সমর্থন জুগিয়ে যাবেন।