পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জমুই, সমস্তিপুর, বাঁকা, কিশানগঞ্জ এবং এ বার গয়া— গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিহারের একের পর এক জেলায় তরুণ যুগলদের হেনস্থার ঘটনার যেন এক উদ্বেগজনক ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি গয়া জেলায় এক বাইকআরোহী তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে আপত্তিকর মন্তব্য, গালিগালাজ এবং শারীরিক হেনস্থার একটি মর্মান্তিক ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ফাঁকা মাঠে গোরু চরার পটভূমিতে মোটরসাইকেলে থাকা তরুণ যুগলকে একদল লোক আটকে রেখে জেরা করছে। এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি বাইকের চাবি খুলে নেয় এবং প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে গুরুর থানা এলাকার বাসিন্দা এক তরুণ তাঁর এক বান্ধবীকে নিয়ে শেরঘাটি থানা এলাকার মহুয়াদিহের কাছের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই একদল লোক তাঁদের ঘিরে ফেলে আটকে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ মানসিকভাবে নির্যাতন ও প্রহার করে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিহারের বেশ কিছু যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'আর্টিয়ান' নামে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ পরিচালনা করে। এই ধরনের হেনস্থার ভিডিও তুলে তা নিজেদের গ্রুপে পোস্ট করে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গয়ার এই ভাইরাল ভিডিওটিও তেমনই কোনো গ্রুপ থেকে ছড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেরঘাটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রমোদ কুমার জানিয়েছেন, "ভাইরাল ভিডিওটি এবং ঘটনা সংক্রান্ত সমস্ত বিবরণ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সনাক্ত করে আইনের ধারা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো মূল অভিযুক্তের গ্রেফতারির খবর নিশ্চিত করেনি, কিংবা ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। একের পর এক জেলায় যুগলদের ওপর এভাবে তথাকথিত ‘নৈতিক নজরদারি’ বা মোরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা নারী নিরাপত্তা ও মুক্ত চলাচলের স্বাধীনতায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।