পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার প্রাক্কালে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংকট। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর আনা এবং স্পিকার কর্তৃক গৃহীত ওই প্রস্তাবটি বাতিল করার জন্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে অনভিপ্রেত চিঠি পাঠিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের শীর্ষ আমলারা। ঘটনাটিকে বিধানসভার সার্বভৌমত্ব ও নির্বাচিত সরকারের অধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে তোপ দাগিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার স্পিকার।
আরও পড়ুন:
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধান সচিব অতল দুলু এবং আইন সচিব অচল শেঠি বিধানসভা সচিবালয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেন যে, রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। এই পদক্ষেপকে চরম শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করে স্পিকার আব্দুল রহিম রাথার জানান, বিধানসভার কার্যক্রমে আমলাতন্ত্রের এভাবে হস্তক্ষেপের কোনো পূর্বদৃষ্টান্ত নেই।
আরও পড়ুন:
আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ প্রকাশ্যেই জানান যে, স্পিকারের থেকে জানার আগে তিনি নিজেই এই চিঠির বিষয়ে কিছু জানতেন না। এটি কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল (UT) হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরের অসহায়তার এক চরম নিদর্শন বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "স্পিকার স্যার, আমি এই রাজ্যের আইনমন্ত্রী এবং একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আমার আনা প্রস্তাব নিয়ে আমার আমলারা আপনাকে মতামত পাঠাচ্ছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না! আমি জানি না কার নির্দেশে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
" তিনি আরও বলেন, "ভারতে এমন ঘটনা আর কোনো রাজ্যে ঘটেছে কি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একটি প্রস্তাব আনছেন আর তাঁর অধীনে থাকা আমলারা তার বিরুদ্ধে কাজ করছেন? এটি কেবল একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই ঘটতে পারে। আর এই ঘটনাটিই বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত বাস্তবতা বুঝিয়ে দেয়।"আরও পড়ুন:
বিজেপির বিক্ষোভ ও কক্ষত্যাগের মাঝেই অবশেষে বিধানসভায় প্রস্তাবটি পাস হয়। তবে নির্বাচিত সরকারের কোনো মতামত ছাড়া আমলাদের এমন পদক্ষেপের ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।