পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে পুরনো ও জরাজীর্ণ কোয়ার্টারে বসবাসকারী চটকল শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষিত ও সস্তায় আবাসনের ব্যবস্থা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০-এর ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে যোগ্য চটকল শ্রমিকদের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। প্রাথমিক ভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে এই প্রকল্পটি শুরু হতে চলেছে। উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুগলিতে আবেদন গ্রহণের জন্য বিশেষ শিবিরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


শ্রমদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ফ্ল্যাট তৈরিতে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্য সরকার ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা এবং কেন্দ্র ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বহন করবে প্রায় ৭১ হাজার টাকা। ফলে উপভোক্তাকে দিতে হবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। জি+৩ কাঠামোর এই ভবনগুলির প্রতি তলায় চারটি করে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট থাকবে।
৩০ থেকে ৪৫ বর্গমিটার বা ৩২০ থেকে ৪৮৫ বর্গফুট কার্পেট এরিয়ার প্রতিটি ফ্ল্যাটে দু’টি ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি শৌচাগার থাকবে। শর্ত অনুযায়ী, ফ্ল্যাট পাওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছর তা কোনওভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণিভুক্ত হতে হবে এবং পরিবারের বার্ষিক আয় তিন লক্ষ টাকার মধ্যে থাকতে হবে। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কারও নামে দেশের কোথাও পাকা বাড়ি থাকা চলবে না এবং গত ২০ বছরে কেন্দ্র বা রাজ্যের অন্য কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া থাকলে আবেদন করা যাবে না। নির্দিষ্ট ফর্মে ইউনিফাইড ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে এই আবেদন করতে হবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলি মূল দায়িত্ব পালন করবে। তবে জেলা প্রশাসন, পুরসভা, ট্রেড ইউনিয়ন এবং চটকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যোগ্যদের চিহ্নিত করবে শ্রমদপ্তর। ইতিমধ্যেই প্রায় আট হাজার শ্রমিক এই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই প্রকল্পে বিধবা, একক মহিলা, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ নাগরিক, রূপান্তরকামী এবং তফসিলি জাতি-উপজাতি-সহ পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ভবনের নিচের দিকের তলায় ফ্ল্যাট দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।