পুবের কলম, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বছরেরও কম সময়ে এটি তাঁদের তৃতীয় বৈঠক। জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এই মামদানিকেই ‘খুদে কমিউনিস্ট’ এবং ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সোমবারের বৈঠকে প্রেসিডেন্টের গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ট্রাম্প এখন নিউ ইয়র্কে। সেই ফাঁকেই মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে তাঁদের বৈঠক হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দু’জনে একান্তে কথা বলেন।
বৈঠক শেষে ৩৪ বছর বয়সি এই বামপন্থী মেয়রকে ‘দুর্দান্ত মেয়র’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রেগন ও এড কোচের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রেসি ম্যানসনে এলেন।রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল অভিবাসন ও জননিরাপত্তা। হাইতিয়ান-সহ কিছু অভিবাসী গোষ্ঠীর অস্থায়ী সুরক্ষার মর্যাদা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মামদানি এই বিষয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা প্রেসিডেন্টকে জানান। নিউ ইয়র্কের সামাজিক বুনন ও অর্থনীতিতে অভিবাসীদের বিপুল অবদানের কথা তিনি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন। তীব্র রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শহরবাসীর স্বার্থে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান মেয়র।
আরও পড়ুন:
কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে ২১০০ কোটি ডলারের আবাসন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। বিশাল রেল ইয়ার্ডের ওপর ১২ হাজার নতুন বাড়ি তৈরি করতে চান মেয়র। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য প্রয়োজন। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনেও এই নিয়ে কথা হয়েছিল। সোমবারের বৈঠকে প্রযুক্তিগত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো কোনো আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি। প্রকল্পটি ব্যয়বহুল হলেও এর বিশাল সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও-এর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভিন্ন মিডিয়া এর প্রতিবাদ করছে। তবে গ্রেসি ম্যানসনের বাইরে যৌথ উপস্থিতিতে সব সাংবাদিককেই স্বাগত জানান মামদানি। তিনি স্পষ্ট জানান, সমালোচনা হলেও তিনি সবার সঙ্গে মতবিনিময়ে বিশ্বাসী। ট্রাম্প অবশ্য সংবাদমাধ্যমের ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। প্রশাসনকে সমালোচনা থেকে আড়াল করতেই এই নিষেধাজ্ঞা, এমন দাবি উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, সাংবাদিকরা বয়কটের হুমকি দিলেও দিনের শেষে তাঁর খবর ঠিকই করে চলেছেন।