পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সিবিএসই বোর্ডের বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা নীতি নিয়ে স্বস্তিদায়ক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পর এবার ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষার নিয়ম কার্যকর করা থেকে ছাড় দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। হঠাৎ ভাষা নীতির পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তকের অভাবে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের তীব্র উদ্বেগের মুখে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতকে জানায় যে, চলতি শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই নীতি থেকে ছাড় দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না।

কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৯৯ শতাংশ সিবিএসই স্কুল ইতিমধ্যেই নতুন ‘তৃতীয় ভাষা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে। মাত্র ১.২ শতাংশ স্কুল এই পরিবর্তনের ফলে প্রভাবিত হয়েছে।

তবে কেন্দ্রের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই ভাষা নির্বাচন করে ফেলেছে, শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে তাদের ওপর নতুন ভাষা কাঠামো চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রধান বিচারপতি প্রস্তাব দেন, "আপনারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল বর্ষীয়ান কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন।

সেই কমিটি আবেদনকারী স্কুল বা অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করুক।"

তবে আদালতের এই পরামর্শের কড়া বিরোধিতা করেন অভিভাবকদের পক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি স্পষ্ট জানান, আর কোনো কমিটি গঠন না করে সরাসরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া দরকার। তাঁর কথায়, "আমরা মনে করি না যে আর কোনো কমিটির প্রয়োজন আছে, কারণ তাতে কোনো লাভ হয় না। বরং যেকোনো উপায়ে আদালত থেকেই একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী সিদ্ধান্ত দেওয়া হোক।"