রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের আবহে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে দলের সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির মধ্যে দুর্নীতি, তোলাবাজি, দাদাগিরি বা সিন্ডিকেট রাজ বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে দলবিরোধী বা দলের নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘বেনোজল’ হিসেবে দলে ঢোকানো নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।  দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে নীতীন বলেন, “দলে দুর্নীতি-তোলাবাজি-দাদাগিরি-সিন্ডিকেট রাজ চলবে না। তৃণমূলকে একারণেই মানুষ সরিয়ে দিয়েছে। এসব বর্জন করতে হবে।

দল সবার দিকে নজর রাখছে। কেউ এসবে যুক্ত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়েও সতর্ক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির পর সংগঠনকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। দলের কর্মীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নম্র ব্যবহার এবং মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।  বিজেপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের উপরও জোর দেন নীতীন।
বিধায়ক ও সাংগঠনিক পদাধিকারীদের মধ্যে দূরত্ব এবং ‘সমান্তরাল’ কাজকর্ম নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এড়াতে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দল ও সরকারের মধ্যেও সমন্বয় বজায় রাখার কথা বলেন তিনি।  নীতীনের বার্তা, শুধুমাত্র সরকারের কাজের উপর নির্ভর করলে হবে না। বুথস্তরে নিয়মিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ‘সেবক’ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা দিতে হবে।  এদিনের বৈঠকে বিজেপিতে নতুন করে ‘বেনোজল’ ঢোকা নিয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন নীতীন।
দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কেউ যাতে সংগঠনে ঢুকতে না পারে, সেদিকে নজর রাখার কথা বলেন তিনি।  দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে এক জেলা সভাপতি তৃণমূলের ‘ভালো’ নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে কী করা উচিত, সেই প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এ বিষয়ে নীতীন নবীন কোনও মন্তব্য করেননি বলে জানা গিয়েছে। এলাকায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনে পৃথক বৈঠকের প্রস্তাবও এসেছে বলে সূত্রের দাবি।  নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের পর এটাই নীতীন নবীনের প্রথম বঙ্গ সফর। রবিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজ্য পদাধিকারী, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব, সাংসদ-বিধায়ক এবং মন্ত্রীদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।  পাশাপাশি, পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগ বাড়াতে বুথভিত্তিক কর্মসূচি ও প্রচারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই কর্মসূচির জন্য ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।