এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কোনও এক জনের সিদ্ধান্তে হয়নি। শনিবার তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবিই তার প্রমাণ বলে দাবি তাঁর। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের সমঝোতা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্তে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার তাঁরা লিখিত ভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে নির্বাচন সদন। সেই ছবি তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “এই ছবিই বলে দিয়েছে, এসআইআরের সিদ্ধান্ত কারও একার ছিল না। তিন নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখান থেকেই তা প্রমাণিত।”

বিরোধীদের আক্রমণ করে তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় মেনে নিতে না পেরেই একটি প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি করা হচ্ছে।

এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাকেও কটাক্ষ করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল, সেই সিপিএমের সঙ্গেই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত মিলিয়েছেন। বিধানসভায় সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিলের ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল ও সিপিএমের ‘বন্ধুত্ব’-এর উদাহরণ দেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে মমতার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এগিয়েছে।

সেই প্রসঙ্গেই মমতাকে নিশানা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল মেনে না নিয়ে এখন কমিশনকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচার করা হচ্ছে।

এদিন শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সভায় উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম ছিল। যদিও এই দাবি নিয়ে কোনও স্বাধীন যাচাইয়ের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।

এসআইআর সংক্রান্ত আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল, স্থানীয় নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের কার্যত পাশ কাটিয়ে নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠিতে এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। বিতর্কের মধ্যেই শনিবার কমিশন জানিয়েছে, বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা বা নতুন ভোটারের নাম তোলার ক্ষেত্রে ইআরও-রাই নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন।