উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘চোর চোর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পাথরপ্রতিমার রামগঙ্গায়। বিডিও অফিসে যাওয়ার পথে পাথরপ্রতিমা পঞ্চায়েত সমিতির দুই তৃণমূল কর্মাধ্যক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ ও তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির প্রাণী ও মৎস্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিবেক পোদ্দার এবং খাদ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শশাঙ্ক হালদার। একই ঘটনায় তাঁদের গাড়িচালক সুবিনয় পট্টনায়কে ও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিডিও অফিসে যাওয়ার পথে রামগঙ্গা এলাকায় ওই দুই কর্মাধ্যক্ষকে ঘিরে প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, তাঁদের লক্ষ্য করে একদল মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, একদল লোক তাঁদের ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন।মুহূর্তের মধ্যেবিক্ষোভের পরিস্থিতি হাতাহাতি ও গণধোলাইয়ের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
তবে ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গাড়িচালক সুবিনয় পট্টনায়কের উপর হামলার অভিযোগ। পরিবারের দাবি, গাড়ি চালিয়েই সংসার চালান সুবিনয়।
ওইদিন পশু চিকিৎসা দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িতে ওই দুই কর্মাধ্যক্ষ ওঠেন।সুবিনয়ের দাবি, গাড়িতে দুই কর্মাধ্যক্ষকে দেখেই বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে দিতে কয়েকজন গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি গাড়ি নিয়ে বিডিও অফিসের দিকে চলে যান। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।পরিবারের দাবি, হামলায় সুবিনয়ের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর চিকিৎসা করা হয় এবং কয়েক জায়গায় সেলাইও পড়েছে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
ছেলের এই অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সুবিনয়ের বাবা-মা। তাঁদের প্রশ্ন, “আমাদের ছেলে কী অপরাধ করেছে? গাড়ি চালিয়ে কাউকে নিয়ে যাওয়াই কি অপরাধ?” সুবিনয়ের বাবা ঘটনার তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের পক্ষ থেকে হামলার পিছনে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সদস্যের যোগ নেই।ঘটনায় কারা জড়িত, হামলার প্রকৃত কারণ কী এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।