পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশে নতুন ভোটারদের নাম তোলার বার্ষিক প্রক্রিয়া বা ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (এসএসআর) স্থগিত রাখা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এই স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা করেছেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে এসএসআর প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার ফলে কয়েক কোটি তরুণ-তরুণী তাঁদের ন্যায্য ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এই ধীর গতি এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার গত কয়েক মাসে একাধিকবার লিখিত ভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলার ক্ষেত্রে এই গড়িমসির অভিযোগ সামনে আসার পরেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে সুর চড়িয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই অভিযোগগুলি খারিজ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কমিশনের দাবি, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের নাম তোলার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি করা হয়নি।

তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসআইআর বা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সি প্রায় ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম সফলভাবে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে যে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশোধনী অনুযায়ী এখন আর নতুন ভোটারদের বার্ষিক প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

বর্তমানে বছরে চারটি নির্দিষ্ট তারিখে, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই বা ১ অক্টোবর যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে, তাঁরা আগেভাগেই নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। পরবর্তীতে তা যাচাই করে চূড়ান্ত করা হয়। তা সত্ত্বেও, নিয়মিত নতুন ভোটারদের নাম তোলার কাজ চললেও কেন আচমকা বহু প্রতীক্ষিত বার্ষিক এসএসআর প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ করে রাখা হয়েছে, সেই বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। দুই নির্বাচন কমিশনারের মতে, দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার কথা বলে নতুন ভোটারদের বার্ষিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।