পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করল কংগ্রেস। শুক্রবার দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ 'আইটিও' মোড়ে দিল্লি কংগ্রেসের ওবিসি সেলের পক্ষ থেকে সিইসি-র অপসারণের দাবিতে পোস্টার ফেলা হয়। পোস্টারগুলিতে লেখা রয়েছে— "জ্ঞানেশ হটাও, নির্বাচন কমিশন বাঁচাও"।

ভোটার তালিকা পুনরীক্ষণ (এসআইআর) ও ইভিএম সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনারের অন্তত ১৪টি আপত্তির খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী গতকাল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।

এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির রাস্তায় নেমে এই বিরোধিতাকে নতুন মাত্রা দিল হাত শিবির।

রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও লড়াই শুরু করেছে ভারতীয় যুব কংগ্রেস। তারা 'জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো' শিরোনামে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছে। এই পিটিশনে ইউথ কংগ্রেসের মূল দাবি- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় অভ্যন্তরীণ মতামত ও নথিপত্র প্রকাশ্যে আনা। যুব কংগ্রেসের বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের এই ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে শামিল করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।

অন্যদিতে, আইনি আঙিনাতেও বড়সড় চাপের মুখে কমিশন।

বম্বে হাইকোর্টের কোলহাপুর বেঞ্চে জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন প্রথমেশ গাওয়ানকর, গৌরব নাখরেকর, আদেশ ভাতকর ও স্মিতালি নারভেকর।

মামলাকারীদের মূল দাবি- এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন জারি করা কমিশনের ১৪টি "একতরফা প্রশাসনিক নির্দেশিকা" অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। মহারাষ্ট্রে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হবে। যে সমস্ত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনঃসংযোজন না করা পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখতে হবে। 

কংগ্রেসের এই আক্রমণের জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, "গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়ে রাহুল গান্ধী হতাশা থেকে এই ধরনের মন্তব্য করছেন। ভারতের সাধারণ মানুষ গান্ধী-ভাদ্রে পরিবারকে বিরোধীর আসনে বসিয়ে দিয়েছে।"