আবদুল ওদুদ: বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা আসার পর গ্রাম বাংলার পশুহাটগুলি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই ঘোষণায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল সাধারণ গ্রামবাংলার মানুষরা। যারা মূলত পশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য বেশ সমস্যা তৈরি হয়েছিল । রাজ্য সরকার বিবেচনা করে গত বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকে সে সমস্ত হাটগুলি ফের চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।
এইরকমই একটি খবর রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন। এর জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সকাল মন্ত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজ্যে ফের চালু হচ্ছে সমস্ত পশু হাট, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সমস্ত পশু হাট নির্দিষ্ট নিয়ম ও সরকারি বিধিনিষেধ মেনে পুনরায় চালু করার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার বলে ক্ষুদিরাম টুডু জানান। বিশেষ করে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন কারণে এই হাটগুলি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এর ফলে গ্রামীণ পশুপালক ও কৃষকদের কেনাবেচা যেমন ব্যাহত হচ্ছিল, তেমনই সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খায়। এই অচলাবস্থা কাটাতে বুধবার নবান্নে আয়োজিত রাজ্য মন্ত্রিসভার এক বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে পশু হাটগুলি পুনরায় খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানান রাজ্যের সংখ্যালঘু ও আদিবাসী কল্যাণ বিষয়ক ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল কৃষক ও পশুপালকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো, পশু কেনাবেচাকে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আগের মতোই মজবুত ও গতিশীল করা।
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মাধ্যমে তিনি পোস্ট করে এ খবরের কথা জানান। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পশু হাট বন্ধ থাকায় প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলি যে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল, সরকারের এই জনমুখী সিদ্ধান্তের ফলে তা দূর হবে। গ্রামীণ বাংলা ও কৃষকদের স্বার্থে এমন তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সরকারি আধিকারিকদের মতে, নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধি কার্যকর হওয়ার ফলে হাটে অবৈধ কারবার বন্ধ হবে এবং কৃষক ও ক্রেতা উভয়েই সঠিক মূল্যে নিরাপদ পরিবেশে পশু কেনাবেচার সুযোগ পাবেন।