পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয় সংক্রান্ত মামলায় সাময়িক স্বস্তি পেল তৃণমূল কংগ্রেস। আপাতত ওই কার্যালয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দখলেই থাকছে। কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিম্ন আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য ও যাবতীয় আইনি বিষয় খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ততদিন পর্যন্ত ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিস থেকে তাঁদের উচ্ছেদ করতে পারবেন না বাড়ির মালিক।

জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে ক্যামাক স্ট্রিটের এই বাড়িটির মালিকপক্ষের সঙ্গে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের একটি চুক্তি হয়েছিল।

সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাড়ির একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করার কথা থাকলেও, শর্ত না মেনে অতিরিক্ত জায়গা জবরদখল করে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া মালিককে না জানিয়ে বহুতলে বড় বড় হোর্ডিং ও বিলবোর্ড লাগানো এবং ভাড়া নিয়ে জটিলতার অভিযোগও সামনে আসে। সেই সময় শাসকদলের ভয়ে বাড়ির মালিক গোয়েঙ্কা পরিবার কোনও অভিযোগ দায়েরের সাহস পাননি বলে দাবি।

পরবর্তীতে রাজ্যে পালাবদলের পর গত ২৫ আগস্ট ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম ও অষ্টম তলে থাকা তৃণমূলের পার্টি অফিসটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালি করার নোটিস দেয় মালিকপক্ষ।

এরপরই সেই নোটিসের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট। নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়ের করে গোয়েঙ্কা পরিবার।
বুধবার সেই মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তারা নিম্ন আদালতের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ করছে না। আদালত নির্দেশ দেয়, সিটি সিভিল কোর্ট উভয়পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে শুনবে এবং সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নিম্ন আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের উচ্ছেদ করা যাবে না।