পুবের কলম, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এই বত্তৃ«তায় তিনি গাজাকে বর্তমান সময়ের ‘সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইসরাইল একটি ‘গণহত্যামূলক মানসিকতা’ নিয়ে এগোচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এরদোগান অবিলম্বে গাজার পুনর্গঠন শুরুর আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রসংঘের প্রধান গুতেরেসও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা চোখের সামনে দেখছি ফিলিস্তিনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছে। 

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস অধিবেশনে না থাকায় তাঁরা গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে তুরস্ক স্বাধীন ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলবে বলে এরদোগান প্রতিশ্রুতি দেন।

১৯৬৭ সালের সীমানার ওপর ভিত্তি করে পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যান্য দেশগুলোকেও দ্রুত ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান এরদোগান। শক্তিশালী ও দুর্বল রাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক আইনের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োগেরও তিনি কড়া নিন্দা জানান। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দেন।
সিরিয়া ও ইরাকে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তুরস্ক কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এরদোগান বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন। তিনি জানান, তুরস্ক আগামী নভেম্বরে আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলনের আয়োজন করবে। ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোগানের ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা শূন্য বর্জ্য উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বিশ্বজুড়ে বিপুল খাদ্য অপচয় রোধের আহ্বান জানান।

পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া এবং মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর দাবি জানান। বত্তৃ«তার শেষে এরদোগান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তুরস্ক কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না এবং মজলুমের অধিকার আদায়ে সব সময় সোচ্চার থাকবে।