পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সাংসদ পদ টিকবে কি না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে ভাগ্য। এরই মধ্যে নিজেদের জাতীয় কমিটি ঘোষণা করে দিল তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তৈরি দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। দলের নতুন সভাপতি হয়েছেন জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এই কমিটিতে তৃণমূলের সাতজন বিদ্রোহী সাংসদ জায়গা পেলেও নাম নেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের মতো পরিচিত মুখদের। প্রথম সারির এই নেতাদের নাম বাদ পড়া নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবু তাহের খান, দেব, ইউসুফ পাঠান, জগদীশ বাসুনিয়া এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মিতালি বাগ এবং বাপি হালদার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল ভেঙে এই নতুন গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আসল’ তৃণমূলের ঘোষণা করেন। এই বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন সুদীপ এবং কাকলি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন তাঁরা।

দলের স্বীকৃতি আদায়ে এত তৎপর থাকা সত্ত্বেও মূল কমিটিতে তাঁদের জায়গা না হওয়াটা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই প্রসঙ্গে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এনসিপিআই সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দলে 'এক ব্যক্তি, এক পদ' নীতি মেনে চলা হচ্ছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইতিমধ্যেই দলের সংসদীয় কমিটিতে যথাক্রমে নেতা ও মুখ্য সচেতকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। সেই কারণেই তাঁদের মূল কমিটিতে না রেখে জাতীয় বর্ধিত কমিটিতে রাখা হবে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দলবদল করা এই কুড়িজন সাংসদের পদ কেন বাতিল করা হবে না, সেই বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জবাব দেওয়ার জন্য আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সংসদে এখনও এনসিপিআই আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি, যদিও এই সাংসদরা ইতিমধ্যেই এনডিএ শিবিরকে সমর্থন জানিয়েছেন।
নতুন কমিটি গঠন এবং সাংসদদের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী সাংসদদের ‘গদ্দার’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর কড়া মন্তব্য, সাধারণ মানুষ এঁদের আর বিশ্বাস করে না। বিজেপি পিছন থেকে যতই মদত দিক না কেন, এই নেতাদের রাজনৈতিক কেরিয়ার একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে।