পুবের কলম, নিউ ইয়র্ক: ভারতের পর এবার তুরস্কও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সার্বিক সংস্কারের জোরালো দাবি তুলল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, গোটা বিশ্ব আজ আর কেবল পাঁচটি দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি হওয়া বর্তমান কাঠামো আজকের বাস্তবতা মানতে পারছে না। স্থায়ী পাঁচ দেশ আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চিন অতিরিক্ত প্রভাব খাটিয়ে আসছে। অতিমারি, জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের মতো সাম্প্রতিক ধাক্কা বুঝিয়ে দিয়েছে যে স্রেফ মুষ্টিমেয় কিছু শক্তির ইচ্ছার ওপর বিশ্ব ছেড়ে রাখা যায় না।
আরও পড়ুন:
এরদোগান স্পষ্ট জানান, সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে ভেটো ক্ষমতার সম্পূর্ণ বিলোপ। স্রেফ নতুন কিছু দেশকে স্থায়ী আসন দিয়ে বিশেষ সুবিধা বাড়িয়ে দিলে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। কোনো একক দেশ যেন আন্তর্জাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত স্থায়ীভাবে আটকে দিতে না পারে, সেই নীতি মানতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী সদস্য থাকা উচিত নয় বলেই তিনি মনে করেন। সাধারণ পরিষদ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচন করবে।
পুনর্র্র্নির্বাচিত হতে গেলে ওই সদস্যকে আবারও সাধারণ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে তার কাছে দায়বদ্ধ করাই তাঁর প্রস্তাব।আরও পড়ুন:
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের শ্রেণিবিন্যাস ধরে রেখে ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থা তৈরি সম্ভব নয়। গত সিকি শতাধীতে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কূটনীতিতে নতুন নতুন শক্তির কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। জলবায়ু সংকট, যুদ্ধ, অনিয়মিত অভিবাসন এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডোরের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়ছে এবং আফ্রিকা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা দাবি করছে।বিশ্বায়ন সবার কাছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পৌঁছে দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বৈষম্য দূর করতে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তি ও বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। আঞ্চলিক বিরোধ বাইরের হস্তক্ষেপে মেটানো যায় না। বরং স্থানীয় অংশীদারিত্বই স্থায়ী সমাধান দেয়। যোগাযোগহীন আলাদা গোষ্ঠী বানিয়ে কখনো শান্তি ফিরবে না। তুরস্ক তার কূটনৈতিক ঐতিহ্য ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একটি ন্যায়সংগত এবং কার্যকর বিশ্ব গড়ার এই লড়াইয়ে পূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাবে।