পুবের কলম, সানা: ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী আনসারুল্লাহ মোখা শহরের আকাশে একটি সৌদি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বুধবার সকালে তারা এই সফলতার কথা জানায়। ড্রোনটি উইং লুং ২ মডেলের ছিল। ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, উপযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করে এটি নামানো হয়েছে। এর পরই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। আরব গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়েমেন সেখানে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এর জেরে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের হামলা বেশ বেড়েছে। সানায় নিজেদের পছন্দের সরকার বসাতে সৌদি জোট এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। ইয়াহিয়া সারি জানান, ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো প্রায় ৭৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর কড়া জবাবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগর উপকূলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। গত ১০ সেপ্টেম্বর তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখল করে নেয়। এতে সৌদি সমর্থিত বাহিনী দক্ষিণে ধুবাবের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরের দিন ইয়েমেনি বাহিনী তাইজ ও হুদায়দাহের ছয়টি জেলা থেকে শত্রুদের বিতাড়িত করে। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।আরও পড়ুন:
এরপর ইয়েমেনের বাহিনী বাব এল-মান্দেব প্রণালির দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়। তারা মেয়ুন বা পেরিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক রুটে ইয়েমেনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনে সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপের আবেদন বাতিল হয়ে গেছে। এরপর সৌদি আরব ব্রিটেনের দ্বারস্থ হয়েছে। তারা ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানের কাছে সামরিক অভিযান ও জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান এবং অবরোধ চালিয়ে আসছে। আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নানাভাবে সমর্থন দিচ্ছে। ইয়েমেন তাদের সাম্প্রতিক এই সামরিক অভিযানকে দীর্ঘস্থায়ী সৌদি আগ্রাসন ও অবরোধের জবাব হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। লোহিত সাগরে নিজেদের এই শক্ত অবস্থানকে তারা ‘অবরোধের বিপরীতে অবরোধ’ নীতি হিসেবেই উল্লেখ করেছে।