উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ধীরে ধীরে তৃণমূলের হাতছাড়া হচ্ছে। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাবে জয়ী হয়েও সংরক্ষণের কারণে প্রধানের চেয়ারে বসতে পারল না বিজেপি জোট। ফলে প্রধান ছাড়াই পঞ্চায়েত পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিজেপির উপপ্রধান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর-১ ব্লকের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এমনই নজির তৈরি হল।
দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতটি ওবিসি সংরক্ষিত।

১৯ সদস্যের এই পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের আমির হোসেন লস্করই ছিলেন একমাত্র ওবিসি সদস্য। তেতুলবেড়িয়া এলাকার ১০ নম্বর বুথ থেকে নির্বাচিত আমির হোসেন লস্করই পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিরোধীরা সরব হয়েছিল। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে বিরোধীদের দাবি।এরই মধ্যে পঞ্চায়েতের দু’জন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় মোট সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৭-তে।
এরপর চারজন বিজেপি সদস্য, দু’জন সিপিএম সদস্য এবং তিনজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্য—মোট ন’জন সদস্য একজোট হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সেই অনাস্থা প্রস্তাবে জয়ী হয় বিজেপি-সমর্থিত জোট। ফলে কার্যত পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বিজেপি জোটের হাতে।কিন্তু এখানেই তৈরি হয় নতুন জটিলতা। পঞ্চায়েতের প্রধানের পদটি ওবিসি সংরক্ষিত হওয়ায় বিজেপি জোটের সদস্যদের মধ্যে সেই সংরক্ষিত শ্রেণির কোনও সদস্য না থাকায় প্রধান নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়নি।
ফলে প্রধানের পদ আপাতত শূন্যই থেকে গেল। পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিজেপির উপপ্রধান রাজু হালদার।অনাস্থা প্রস্তাবে জয় এবং পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ হাতে আসার পর বুধবার দেবীপুরে বিজেপি জোটের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। রাজু হালদারের গলায় মালা পরিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান দলের কর্মী-সমর্থকেরা। এদিন পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও শোনা যায়।তবে প্রধানের পদটি সংরক্ষিত থাকায় আগামী দিনে প্রশাসনিকভাবে কীভাবে পঞ্চায়েতের কাজ পরিচালিত হবে, তা নিয়েই এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। আপাতত প্রধান ছাড়াই উপপ্রধান রাজু হালদারের নেতৃত্বে দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ চলবে।