পুবের কলম প্রতিবেদক: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই লক্ষ্যে বুধবারের এমন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এবার নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভা সূত্রে খবর, এই দিনের মন্ত্রিসভায় এক লক্ষের বেশি নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদের সংখ্যা কত তা জানতে দপ্তর গুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দপ্তর গুলি থেকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পাওয়ার পর এবার নিয়োগের বিষয় সম্মতি দিল রাজ্য সরকার।
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এদিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ মিলে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে শুধুমাত্র পুলিশেই। অন্যান্য দপ্তর ধরলে এই সংখ্যাটা এক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের ৫৩ টি দপ্তরের কমবেশি চার থেকে পাঁচ হাজারের মতো শূন্যপদ রয়েছে। এই শূন্য পথ পূরণ কেই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ১৫ বছর কর্মসংস্থান হয়নি।
ফলে বিভিন্ন দপ্তরে প্রচুর শূন্য পদ রয়েছে। যেহেতু বিগত সময়ে নিয়োগ বন্ধ ছিল তাই যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের মানুষ আশা করছে এই সরকার তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করবে। আর সেই জায়গা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই সরকার।জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দপ্তর ধরলে মোট ১ লক্ষ ৫৩ হাজার মত কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার চাইছে যে প্রথম দফায় প্রায় এক লক্ষের বেশি নিয়োগ সেরে ফেলতে।
এক্ষেত্রে নিয়োগ যাদের স্বচ্ছ ভাবে হয় সেজন্য এসএসসি এবং পিএসসির মাধ্যমেই নিয়োগ হবে বলে জানা যাচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই বিশাল সংখ্যক নিয়োগের মধ্যে একটা বড় অংশ থাকছে শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগ। আর বাকিটা বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদ অনুযায়ী নিয়োগ হবে। রাজ্য প্রশাসনের একটি শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, আগের সরকার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের উপর বাড়তি গুরুত্ব দিত। ফলে বিভিন্ন দপ্তরের বিশাল সংখ্যক পদ শূন্য ছিল। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, দ্রুত এই সমস্ত শূন্য পদের একটা বড় অংশ পূরণ সম্ভব হবে। যতদূর জানা যাচ্ছে, দুর্গাপুজোর আগেই নিয়োগ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি বের হওয়া শুরু হতে পারে। এবং নিয়োগের প্রক্রিয়া চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিচ্ছে এই সরকার।