পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আসন্ন উপনির্বাচনে দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে যে প্রতীককে সামনে রেখে ভোটের ময়দানে নেমেছিল আইএসএফ, ভোটের ঠিক আগে সেই ‘খাম’ প্রতীকই হাতছাড়া হয়েছে নওশাদ সিদ্দিকীর দলের। প্রতীক ফিরে পাওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া মামলায় বুধবার নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট এর সিঙ্গেল বেঞ্চ। এদিনবিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে  মামলাটির শুনানি হয়।  বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। তার আগে নির্বাচন কমিশন ‘খাম’ প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’কে দিয়েছে। অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আইএসএফকে বরাদ্দ করা হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন বিধায়ক নওশাদ। এর আগে প্রতীক ফিরে পাওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দিয়েছিলেন তিনি।নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিষয়ে কমিশনের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলীয় নাম ও ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কালীঘাট ভিত্তিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে (ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস) ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েই তড়িঘড়ি আদালতের শরণাপন্ন হয় আইএসএফ নেতৃত্ব। আইএসএফ-এর পক্ষে সিনিয়র  আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য শুনানির শুরুতেই কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতি নির্বাচনেই আইএসএফ নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলিতে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে আসছে, যা কমিশনই তাদের বরাদ্দ করেছিল।
তাঁর অভিযোগ, ক্ষ্মযে ‘খাম’ প্রতীকটি এতদিন ধরে একটি নিবন্ধিত দল হিসেবে আইএসএফ ব্যবহার করে আসছে, সেটি কীভাবে হঠাৎ অন্য একটি অননুমোদিত রাজনৈতিক দলকে দিয়ে দেওয়া হল? এর ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অমৃতা পাণ্ডের কাছে জানতে চান, ‘একই প্রতীক কীভাবে দুটি আলাদা রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করতে দেওয়া যেতে পারে? এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোথায় থাকে?’ জবাবে কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, ‘খাম’ কোনও একটি নির্দিষ্ট দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক  নয়, এটি একটি ‘ফ্রি সিম্বল’ বা মুক্ত প্রতীক। ফলে নিয়ম অনুযায়ী কমিশন এই প্রতীক যে কোনও নিবন্ধিত দলকে বরাদ্দ করার এক্তিয়ার রাখে। কমিশনের এই বক্তব্য  শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব?
যে প্রতীকটি এতদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট দল ব্যবহার করে আসছে, তা অন্য কাউকে দিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াটাই তো স্বাভাবিক!’ এরপরই বিচারপতি জানান, নির্বাচন কমিশনকে হাইকোর্টে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে কীভাবে একই প্রতীক নিয়ে দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং এই জট ছাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?’২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে আইএসএফ। দলটি প্রতিষ্ঠা করেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। শুরু থেকেই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর ভাই নওশাদ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাতে সময় কম থাকায় আইএসএফ কোনও নিজস্ব প্রতীক পায়নি।এর ফলে বিহারের ‘রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টি’র ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ে তারা। পরবর্তী পঞ্চায়েত, লোকসভা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ওই প্রতীক ব্যবহার করে আইএসএফ। নওশাদও ভাঙড় কেন্দ্র থেকে খাম প্রতীকে জয়ী হয়েছেন।