পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক এবার শাসক জোটের অন্দরেও ঢেউ তুলেছে। এনডিএ সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সহযোগী দল লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) প্রধান চিরাগ পাসওয়ান শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সংস্থাকে ঘিরে জনগণের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন কমিশন—বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কমিশন সম্পর্কিত সমস্ত জল্পনা ও অভ্যন্তরীণ মতভেদের জট খুলতে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা পুনরীক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
শুক্রবারের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান বলেন, "যদি নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দিকে এমন প্রশ্ন তোলা হয়, তবে আমি মনে করি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিজের এবং কমিশনের অবস্থান দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করা। বিরোধীরা রাজনীতি করবে, তা নিয়ে আমি ভাবছি না। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর যদি মানুষের মনে কোনো সংশয় তৈরি হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত ভুল।"
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের শাসকদলের ওপর বিরোধী ও তরুণ নেতৃত্বের চাপ তীব্র হয়েছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, দেশে সরাসরি "ভোট চুরি" হচ্ছে। এর ফলে সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তৈরি করা আইনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাহুল গান্ধী সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে "দেশদ্রোহী" বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।আরও পড়ুন:
বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনকারী গোষ্ঠী 'কাকরোচ জনতা পার্টি' জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পদ না ছাড়লে দিল্লি-সহ সারাদেশে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।