পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর পর্যটন শিল্পে জোয়ার আনতে মরিয়া নতুন সরকার। উত্তর থেকে দক্ষিণ; গোটা রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বড়সড় বিনিয়োগ টানার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। শুক্রবার নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরলেন পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ।
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পর্যটন ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবসে তাজ বেঙ্গলের ক্রিস্টাল রুমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে লগ্নিকারীদের সম্মেলন। রাজ্যের এবং রাজ্যের বাইরের বিনিয়োগকারীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
নতুন সরকারের পর্যটন ভাবনা ঠিক কেমন? মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, সম্ভাবনাকে বিনিয়োগে এবং বিনিয়োগকে কর্মসংস্থানে বদলে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, ক্ষ্মআমরা পর্যটন দপ্তরের কতগুলো ভিশন সামনে নিয়ে আসি। এবং সেই ভিশনের মধ্যে আমরা দুটো কথা বলেছিলাম। একটা হচ্ছে পারফরম্যান্স আমাদের পোটেনশিয়াল টু পারফরম্যান্স এবং পার্টনারশিপ ইন প্রোগ্রেস।’
বর্তমানে পর্যটনের রূপ বদলাচ্ছে। প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ক্ষ্মকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তি পর্যটকের গন্তব্য নির্বাচন ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং পর্যটনের অভিজ্ঞতাকে যেহেতু দ্রুত বদলে দিচ্ছে তাই পর্যটনকে প্রযুক্তি নির্ভর মানবিক অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দায়িত্বশীল করবার আমরা চেষ্টা করেছি।’
বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বদেশ দর্শন’ প্রকল্পে মিরিক লেক উন্নয়নের জন্য ৫৭ কোটি টাকার অনুমোদন পেয়েছে রাজ্য। দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও মিরিকের পাশাপাশি সুন্দরবনকে নিয়ে ‘ওয়ান স্টেট ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
নদী পর্যটনেও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ১০০ জন যাত্রী বহনকারী হাইব্রিড বৈদ্যুতিক ফেরি নামানোর জন্য ইতিমধ্যেই জিআরএসই-র সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে কলকাতা, ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে হুগলি ও নদিয়ায় নতুন জেটি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ‘১২ মাসে ১২ পার্বণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার উৎসব ও মেলাগুলিকে সরাসরি পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার বড় পদক্ষেপ করেছে সরকার।
সব মিলিয়ে, নিছক রাজস্ব আদায় নয়, বড়সড় কর্মসংস্থানের আশায় রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে বর্তমান সরকার। আগামী দিনের বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই নতুন পর্যটন নীতির বাস্তবায়ন এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।