পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পুজোর পরেই রাজ্যে কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে রাজ্য বিজেপিতে ব্যাপক রদবদল করা হল। দলে 'এক ব্যক্তি এক পদ' নীতি কার্যকর করতে একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও বিধায়ককে রাজ্য কমিটির সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ততার কারণে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল এবং তাপস রায়কে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে কোনও দপ্তরের মন্ত্রী না হয়েও যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি এবং তাঁর কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের কারণেই এই পদক্ষেপ করে দল কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে।
বর্তমানে রাজ্য বিজেপির নতুন সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন সৌমিত্র খাঁ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অনন্ত দেব অধিকারী, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো প্রমুখ। বিভিন্ন মোর্চার নেতৃত্বেও বড়সড় বদল আনা হয়েছে।
যুব মোর্চার সভাপতি পদ থেকে ইন্দ্রনীল খাঁ-কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকে। ফাল্গুনী পাত্রকে সরিয়ে মহিলা মোর্চার নতুন সভাপতি করা হয়েছে অঞ্জনা বসুকে, আর ফাল্গুনীদেবীকে রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া ওবিসি এবং এসসি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন যথাক্রমে ধনঞ্জয় ঘোষ ও বিশ্বজিৎ বিশ্বাস।
এর পাশাপাশি সাতটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদেও নতুন মুখ আনা হয়েছে। বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান এবং কাটোয়া জেলার নতুন সভাপতি হয়েছেন যথাক্রমে নৃপেন বিশ্বাস, দীপঙ্কর চক্রবর্তী, শশী সিংহ, প্রশান্ত দিগর, সৌমেন তিওয়ারি, আশিস পাল এবং মানিক রায়। মূলত আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মন্ত্রীদের প্রশাসনিক কাজে জোর দিতে এবং সংগঠনে নতুন মুখ আনতেই দলের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।