পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে চরম বিতর্ক ও অস্বস্তির মুখে পড়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার  জ্ঞানেশ কুমার। এবার সেই আঁচ পৌঁছাল দেশের শীর্ষ আদালতে। দুই নির্বাচন কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ এবং ইসিআইনেট সিস্টেমে অসাংবিধানিক পরিবর্তনের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তির দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু বিস্ফোরক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ২৫ সেপ্টেম্বর শীর্ষ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, বিগত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) বিভিন্ন গাইডলাইন, ডেটা কেন্দ্রীকরণ এবং ইসিআইনেট সফটওয়্যারে পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী—কমপক্ষে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

কিন্তু তাঁদের মতামত ও আইনি সংস্থান সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই সিইসি একতরফাভাবে এই পরিবর্তনগুলি কার্যকর করেন।

মামলাকারীর যুক্তি, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী একাধিক সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো একক ব্যক্তি বা সিইসি সর্বসম্মত সম্মতি ছাড়া একতরফা নির্দেশ জারি করতে পারেন না, যা এই পদক্ষেপগুলিকে বেআইনি করে তোলে।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে, ইসিআইনেটের আওতাধীন নতুন নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’-এ আনা বিতর্কিত পরিবর্তনগুলি অবিলম্বে রদ করে পুরনো আবেদনপত্র ফিরিয়ে আনা। (নতুন ফর্মে আবেদনকারী বা তাঁর পূর্বপুরুষদের নাম আগের এসআইআর তালিকায় ছিল কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছিল, যার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন দুই কমিশনার)।

দেশজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম কী ভিত্তিতে মোছা হয়েছিল, সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করেছিল এবং ডেটাবেস হস্তান্তরের বিষয়টি তদন্ত করতে নিরপেক্ষ বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ নম্বর ধারা (কর্তব্য গাফিলতি) অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গ এবং ইসিআই-এর আইটি প্রধান সীমা খান্নার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করা।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা এবং যাবতীয় অভিযোগকে অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, এসআইআর বা ফর্ম ৬ এবং ৮ সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশক ও সিদ্ধান্ত সিইসি এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের পূর্ণ সম্মতিতে সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল। একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।