পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রায় এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনায় করমর্দনের মাধ্যমে শিকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। এ সময় বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান ও চারটি এফ-২২ র‌্যাপ্টর যুদ্ধবিমানের ফ্লাইওভার এবং সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়।
এরপর ওভাল অফিসে বৈঠকে বসেন দুই নেতা। আলোচনায় তাইওয়ান, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বৈঠককে ট্রাম্প ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেন। দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের পর দুই দেশ একটি ‘নতুন যৌথ সমঝোতায়’ পৌঁছেছে বলেও জানান শি।
নৈশভোজের আগে শি ও ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। শি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘নতুন ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের শাসনব্যবস্থা ভিন্ন হলেও দুই দেশের জনগণের বন্ধন অটুট এবং সম্পর্ক আগের চেয়ে ভালো।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে শি বলেন, চিন-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব ‘রক্ত ও আগুনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা’ এবং এ সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে। এদিকে নৈশভোজের আগে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও চিনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট পরিদর্শন করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের হোয়াইট হাউসে ব্যস্ত দিন শেষ হয়েছে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে দুই নেতা শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

এরপর আয়োজন করা হয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের। দুই নেতার রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। নৈশভোজের আয়োজনকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ‘রন্ধন কূটনীতি’র একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের অতিথি তালিকায় ছিলেন অ্যাপলের টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, অ্যালফাবেটের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো শীর্ষ নির্বাহীরা। এত বড় প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিত্ব থাকা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সম্ভবত মার্কিন প্রযুক্তিপণ্যের উপর যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা কঠোরভাবেই বজায় রাখবেন। এসব নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে চায় সি।