পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গঙ্গা ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কামালতিপুর জামে মসজিদ। কার্যত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে মসজিদটি। তিনদিক ঘিরে রয়েছে রাক্ষুসে গঙ্গার জলরাশি। গত তিন বছর ধরে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় চলছে ভাঙন। প্রতিবারই ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু এবার সেই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির অস্তিত্বই চরম প্রশ্নের মুখে।

পাশাপাশি ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ২ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলও।
বন্যার জেরে এতদিন গঙ্গার জলে ভাসছিল গোটা কামালতিপুর এলাকা। জলস্তর কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। বাড়িঘর সরাতে শুরু করছেন অনেকে। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ভাঙন। যদিও এদিন নতুন করে আর ভাঙন না হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে এলাকার মানুষজন।
গঙ্গা থেকে কামালতিপুর অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলটি এখন ১০ মিটার দূরে। উদ্ধবটোলা ও কামালতিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটির কাছাকাছি এখন বইছে ভয়াল গঙ্গা। আপাতত ১০টির মতো পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। এদিকে জামে মসজিদের তিন দিকেই চলছে ভাঙন। তাতেই আতঙ্ক বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। 
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আইয়ুব আলি বলেন, ‘গত বছর সংশ্লিষ্ট দফতর আমাদের আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত এই জামে মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
’ তাঁর দাবি, ‘সেই কারণেই গত বছর মসজিদটি অক্ষত রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনের ভয়াবহ ভাঙনে এবার মসজিদটির অস্তিত্ব নিয়েই আমরা ভীষণভাবে আতঙ্কিত। এবারে এখনও প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয় নি। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ ভাঙনে ইতিমধ্যে আনসারুল মোমিন, মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, কুরবান মোমিন, নূরজাহান বেওয়ার বাড়ি তলিয়ে গেছে গঙ্গায়। এদিকে সাকিমুদ্দিন মোমিন, শাহজাহান মোমিন, আসীন মোমিন, নয়মুদ্দিন মোমিনরা বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছেন। যে কোনও সময় তলিয়ে যেতে পারে গোটা এলাকা। রাক্ষুসে গঙ্গার হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাই প্রয়াস চালাচ্ছেন অসহায় এলাকাবাসী।