গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একাধিক দেশের নেতা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময়ও আন্তর্জাতিক অসন্তোষের দৃশ্যমান প্রকাশ ঘটে। তাঁর ভাষণ শুরু হওয়ার আগে ও পরে বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন কূটনীতিক অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। কয়েকজন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে প্রতিবাদও জানান। অধিবেশনের সভাপতিকে এ সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি আরও দৃঢ় অঙ্গীকারের আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের আইন’-এর দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যতে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকার বিরোধিতা করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান। তবে ‘গণহত্যা’ শব্দটির ব্যবহার একটি রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে বিতর্কিত বিষয়—এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।
আরও পড়ুন:
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জাতিসংঘে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল হল থেকে বেরিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা এরদোয়ানের বক্তব্যে করতালি দেন।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকে ক্রমশ কঠিন করে তুলছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথা তুলে ধরে গাজার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তি পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
এদিকে গাজায় সামরিক অভিযানের সময় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজায় একটি বিস্ফোরক ড্রোন দুর্ঘটনার ঘটনায় তারা নিহত হন। ড্রোনটি দ্বিতীয়বার উড্ডয়নের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সামরিক পোস্টের ভেতরে পড়ে যায় এবং পরে সেটির কাছে সেনারা গেলে বিস্ফোরণ ঘটে।