পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের ভেতরের প্রশাসনিক সংঘাত ও ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন নিয়ে চলা বিতর্ক এবার কেন্দ্রে শাসক জোট এনডিএ-র শরিক দলগুলির মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) প্রধান চিরাগ পাসওয়ানের পর এবার বিজেপির আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দল—তেলুগু দেশম পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা—ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সুস্পষ্ট ও জোরালো বক্তব্য রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এ প্রকাশিত বিস্ফোরক প্রতিবেদনের পর বিরোধীদের একের পর এক আক্রমণের মুখে এখন এনডিএ-র এই তিনটি শরিক দলই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি দূর করার দাবি তুলল। শুক্রবার প্রথম সরব হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান স্পষ্ট করেন, তিনি বিরোধীদের অভিযোগকে সমর্থন করছেন না, তবে সাধারণ মানুষের মনে যাতে কোনো সংশয় না থাকে তার জন্য কমিশনের উচিত বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলা।
তিনি বলেন, "নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর যদি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস হ্রাস পায়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য ভালো সংকেত নয়। বিরোধী নেতারা কী বলছেন তা নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই, তবে জনগণের মনের দ্বিধা দূর করতে নির্বাচন কমিশনকে আরও জোরালোভাবে নিজেদের স্পষ্টীকরণ সামনে আনা উচিত।"আরও পড়ুন:
আরএলএম সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ উপেন্দ্র কুশওয়াহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। প্রকৃত পরিস্থিতি জানিয়ে কমিশনের অবিলম্বে প্রেস বিবৃতি জারি করা উচিত।
আরও পড়ুন:
টিডিপির লোকসভার দলনেতা লাবু শ্রীকৃষ্ণ দেবরায়ালু জানান, অন্ধ্রপ্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়া সফল ও স্বচ্ছ হলেও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের পূর্ণ আস্থা রাখা জরুরি। যেকোনো প্রশ্ন উঠলে সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা বাড়াবে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকার নিয়ম বদল, ‘ফর্ম ৬’-এ সংশোধন, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বা যোগ করা এবং ইসিআইনেট সিস্টেমের ব্যাকএন্ড নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় তীব্র বিক্ষোভ শুরু করে।