পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতভেদের বিস্ফোরক খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক তরজার মধ্যে এবার মুখ খুললেন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP) সভাপতি তথা অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগন মোহন রেড্ডি। সংবিধানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের নানা সিদ্ধান্ত ও ইসিআইনেট ব্যবস্থাপনায় দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছিলেন। সেই খবরের পরেই বিরোধী রাজনৈতিক মহলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি ওঠে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জগন মোহন রেড্ডি বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকলেই কেবল গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে। কাদা ছোড়াছুড়ির বদলে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, কাটা বা ফেরানোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ ছিল—সে বিষয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট তথ্য আসা জরুরি।

নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করে জগন বলেন, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত যে বিল পাশ হয়েছিল, ওয়াইএসআরসিপি তা সমর্থন করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।

নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করার জন্য একটি রূপক ব্যবহার করে জগন লেখেন, "পরীক্ষার্থী যদি নিজেই নিজের পরীক্ষক বা গার্ড নির্বাচন করে, তবে সেই পরীক্ষার্থী যতই সৎ হোক না কেন, অভিযোগ ওঠা স্বাভাবিক। নিরপেক্ষ কাউকেই এই পদে বসানো শ্রেয়। কেন্দ্র সরকারের (শাসক দল) উচিত এগিয়ে এসে একটি সংশোধনী আনা, যেখানে নির্বাচন কমিশনারদের প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতির তিন সদস্যের কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে।"

রাজ্যের বিগত দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জগন অভিযোগ করেন, অন্ধ্রপ্রদেশে এসআইআর চলাকালীন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিল। ওয়াইএসআরসিপি-র একাধিক আবেদন ও আপত্তিকে আমল দেওয়া হয়নি। এমনকী স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের সময় সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিরোধীদের দাবি খারিজ করা হয়েছিল, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস দুর্বল করে দেয়।