পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT)-র অন্দরে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে আবারও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি মুম্বইয়ের এনার্জি সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়া কোডের ঝুলন্ত দেহ তাঁর হোস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধারের পর দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে চিহ্নিত করলেও, এই মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের নামজাদা ক্যাম্পাসগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সাহিলের মৃত্যুর পর সামনে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের আওতায় প্রাপ্ত নথি এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত ২০ বছরে দেশের বিভিন্ন আইআইটি ক্যাম্পাসে মোট ১৭১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন:
গবেষণা ও আরটিআই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিগত ২০ বছরের পরিসংখ্যান সব বছরে সমান ছিল না। প্রথম ১০ বছর (২০০৬ থেকে ২০১৫) যেখানে মোট ৫১টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, সেখানে পরবর্তী সাড়ে ১০ বছরে (২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর) সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০-এ।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে ১৩, ১১ ও ১২ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা তিন বছর প্রতি বছর ১৪ জন করে শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।
২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ১৬টি আত্মহত্যার ঘটনা রেকর্ড হয়। ২০২৬ (১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) চলতি বছরের প্রথম সাড়ে আট মাসেই ১৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর মিলেছে।আরও পড়ুন:
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্বাভাবিক মৃত্যুর নিরিখে দেশের সব আইআইটির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুর। দেশের প্রথম এই আইআইটি ক্যাম্পাসে গত ২০ বছরে অন্তত ২৯ জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। উল্লেখ্য, গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই এই প্রতিষ্ঠানেরই প্রাক্তনী। কঠিন প্রতিযোগিতা, অ্যাকাডেমিক চাপ, মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা নাকি ক্যাম্পাসের সামাজিক পরিবেশ—ঠিক কী কারণে একের পর এক মেধাবী শিক্ষার্থী মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছেন, তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।