পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গুয়াহাটিতে দলের প্রথম রাজ্যস্তরের কর্মী সম্মেলনের ঠিক মুখেই তোপের মুখে পড়ল ‘ককপ্রোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। রবিবার সকালে দলের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং একাধিক দলীয় স্বেচ্ছাসেবককে আটক করে অসম পুলিশ। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘অসংবিধানিক’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটির নেতৃত্ব।

ঘটনার সূত্রপাত গুয়াহাটির চৌধুরী টিলা এলাকায়। অসম সচিবালয়ের ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত এই স্থানেই সিজেপি-র প্রথম আঞ্চলিক কর্মী সম্মেলন আয়োজনের কথা ছিল।

অভিযোগ, অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশ চৌধুরী টিলার দিকে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে।

দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ কেবল রাস্তা বন্ধ করেই ক্ষান্ত থাকেনি, আগত সমর্থকদের আটকাতে কাঁদানে গ্যাসের সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। শনিবার গুয়াহাটিতে পৌঁছানো দলের শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় পথেই তাকে অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আটক করা হয়। আটক কর্মীদের ঠিক কতজন এবং কোন কোন থানায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

আটকের পর পুলিশের বাস থেকে তোলা একটি ভিডিওতে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নিশানা করে তিনি বলেন, "হিমন্ত মামা কোনো সুস্থ মানুষকে সুস্থভাবে কথা বলতে দিতে ভয় পান। আমাদের ভয় পাওয়ার একটাই কারণ—আমরা সরকারের ব্যর্থতা, সরকারি স্কুলের করুণ দশা এবং ব্রক্ষ্মপুত্রের কৃত্রিম বন্যার প্রকৃত সত্য প্রকাশ করে দিতাম।"

সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের ব্যারিকেড ও টিয়ার গ্যাস মোতায়েনের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে রাঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ একটি কর্মী সম্মেলন নিয়ে রাজ্য সরকার কেন এতটা আতঙ্কিত? এই ঘটনার পর অসমে রাজ্য প্রশাসন ও নতুন এই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘাত চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রশ্ন করেছেন, "হিমন্ত, আপনি এত ভয় পাচ্ছেন কেন?"