উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় :একটি সেতু ভেঙে পড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই একই নদীর উপর থাকা দ্বিতীয় সেতুতেও বড়সড় ফাটল।কালুয়া নদীর উপর পরপর দুটি সেতুর বেহাল দশাকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছেপাথরপ্রতিমার আবাদ গঙ্গাধরপুর এলাকায়।
মঙ্গলবার পরিদর্শনে আসার কথা থাকলেও রবিবারই ভেঙে পড়া সেতু এবং ফাটল ধরা দ্বিতীয় সেতুটি পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেতু দুটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে কালুয়া নদীর উপর দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই সেতু দুটির কাজ চলাকালীনই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তারই মধ্যে একটি সেতু সম্পূর্ণ ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সেতুটিতেও বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অংশ থেকে চাঙড় খসে পড়ার পাশাপাশি সেতুতে রেলিং ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।দুটি সেতুই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিডিও অফিস-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও প্রশাসনিক দফতরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সেতুগুলি। একটি সেতু ভেঙে পড়ায় বর্তমানে নদী পারাপারের জন্য কলাগাছ দিয়ে তৈরি মান্দাসের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।এদিন পরিদর্শনের সময় পুরনো সেতুর নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাথরপ্রতিমা ব্লকের বিডিও কৃষ্ণেন্দু ঘড়াকে তিনি সংশ্লিষ্ট সেতু নির্মাণের দায়িত্ব কোন ঠিকাদার সংস্থার ছিল,সরকারি নির্ধারিত ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ হয়েছিল কি না এবং নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের পাশাপাশি পুরনো সেতু নির্মাণে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর এবার দ্রুত নতুন সেতুর কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পাথরপ্রতিমার আবাদ গঙ্গাধরপুরের বাসিন্দারা।