পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্দরের কলহ ও বিতর্ক কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের আক্রমণ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক পুরোনো এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনে চাপ আরও বাড়াল বিরোধী দলগুলি। ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ায় এক প্রকৌশলীর আত্মহত্যার ঘটনায় লেখা নোটে জ্ঞানেশ কুমারের নাম জড়িয়ে থাকা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছে কংগ্রেস এবং ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
আরও পড়ুন:
রবিবার কেরল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে দাবি করা হয়, ২০০৬ সালের নভেম্বরে কেরালার বিশ্বব্যাঙ্ক-পুষ্ট সড়ক প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘PATI-BEL’ যৌথ উদ্যোগের প্রজেক্ট অফিসার এবং মালয়েশীয় প্রকৌশলী লি বিন সিন কুয়ালালামপুরে আত্মহত্যা করেন। কংগ্রেসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যা করার আগে লেখা একটি চিঠিতে লি বিন সিন তাঁর এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে চরম মানসিক হেনস্থা, দুর্নীতি এবং পাওনা টাকা আটকে রাখার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন গণপূর্ত বিভাগের পদস্থ আধিকারিক এবং বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছিলেন সেই চিঠিতে উল্লিখিত অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তি।আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের দাবি, "অভিযোগ ওঠার পর জ্ঞানেশ কুমারকে পিডব্লিউডি থেকে বদলি করা হয়েছিল এবং একটি নজরদারি (ভিজিল্যান্স) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি—কাউকে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।" কংগ্রেসের অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় দুই দশক পর এই পুরনো দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে।
দলটির দাবি, তথাকথিত ‘ভোট চুরি’ ও মেরুকরণের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির মদতেই আজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে, কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিব জিজি থমসনকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দেওয়ার পেছনেও জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা ছিল বলে সম্প্রতি যে দাবি উঠেছিল, তাকেও হাতিয়ার করেছে বিরোধীরা। সমাজমাধ্যমে সুর চড়িয়ে কংগ্রেস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সিইসি-র "বিচারের দিন ঘনিয়ে আসছে এবং তাঁকে কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।"
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের প্রকাশিত এই পোস্টটি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ভাগ করে নেন কক্রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপক। তিনি পোস্টটি শেয়ার করে ব্যঙ্গাত্মক সুরে লেখেন, "জ্ঞানু (জ্ঞানেশ কুমার)-র নামও আত্মহত্যাপত্রে লেখা ছিল?!"