পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পাঁচ মাসের বেশি বয়সি গর্ভস্থ ভ্রূণ আইনের চোখে একজন পৃথক ‘ব্যক্তি’ বা স্বাধীন সত্তা হিসেবে গণ্য হবে। তাই কোনও দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে তাকে একটি স্বাধীন জীবনের ক্ষতি ধরে পরিবারকে পৃথক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এক যুগান্তকারী রায়ে এমনই পর্যবেক্ষণ জানাল এলাহাবাদ হাই কোর্টের লখনউ বেঞ্চ। বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের একক বেঞ্চ রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশ খারিজ করে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সাত মাসের অনাগত সন্তানের জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ জুন দুই ছেলেকে নিয়ে সীতাপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিসওয়ান স্টেশনগামী জন সাধারণ এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন এক মহিলা। তিনি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিসওয়ান স্টেশনে নামার সময় ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় এবং গর্ভস্থ শিশুটিও মারা যায়। এই ঘটনার পর মৃতের পরিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে লখনউ রেলওয়ে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল জানায়, রেল আইনে ভ্রূণকে পৃথক যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করার নিয়ম নেই। তাই অনাগত শিশুর জন্য আলাদা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন তারা খারিজ করে দেয়।
ট্রাইব্যুনালের সেই যুক্তি নস্যাৎ করে দিয়ে হাই কোর্ট জানিয়েছে, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস বা ২০ সপ্তাহ পার করার পর মাতৃগর্ভের ভ্রূণ যথেষ্ট বিকশিত হয়ে ওঠে এবং সেটিকে একজন পৃথক স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রেন বা সড়ক দুর্ঘটনায় কোনও অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে অনাগত সন্তানের মৃত্যুকে মিলিয়ে দেওয়া যায় না। ভ্রূণের স্বাধীন জীবনের ক্ষতির জন্য পরিবারকে অবশ্যই পৃথকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।