পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকা 'এল নিনো' জলবায়ু পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তৈরি হচ্ছে তীব্র তাপদাহ ও চরম আবহাওয়া। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট’ ও ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’-এর প্রকাশিত এক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তীব্র গরমের কারণে ভারতে প্রায় ১৫,৮০০ অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত গরমের কারণে আনুমানিক ২,৩৯,০০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞানীরা বর্তমান এল নিনোর তীব্রতাকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী মাসগুলিতে বিশ্বব্যাপী স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
এর ফলে বিশ্বজুড়ে ‘চরম গরম’ দিন আগের তুলনায় প্রায় ৪৪% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিস্থিতি মানবজাতিকে আগামী ২০ বছর পর পৃথিবীর সাধারণ জলবায়ু কেমন হতে পারে, তার এক অগ্রিম বার্তা বা ‘ভবিষ্যতের চিঠি’ দিচ্ছে।আরও পড়ুন:
গবেষণা অনুযায়ী, চরম তাপমাত্রার মুখোমুখি হওয়া এবং অভিযোজনের সীমিত সক্ষমতা রয়েছে এমন অঞ্চলগুলিতেই প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের শেষের দিকে এটি 'অত্যন্ত শক্তিশালী' রূপ নিতে পারে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তীব্রতা বজায় থাকার আশঙ্কা প্রায় ১০০ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
তবে ডাব্লিউএমও স্পষ্ট করেছে যে তারা ‘সুপার এল নিনো’ শব্দটি ব্যবহার করে না; তারা এটিকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী বা অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কেবল এল নিনোর তীব্রতা দেখে সব দেশের স্থানীয় আবহাওয়া বিচার করা যায় না; স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থান, ঋতু এবং ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল-এর মতো অন্যান্য আবহাওয়া সংক্রান্ত কারণগুলিও আঞ্চলিক প্রভাব নির্ধারণে ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন:
ডাব্লিউএমও-র মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, "এল নিনো আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু এটিই প্রতিটি শহর বা প্রতিটি তাপদাহের একমাত্র কারণ নয়। বিশ্বব্যাপী পূর্বাভাসকে স্থানীয় স্তরের সতর্কতা ও পদক্ষেপে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।" গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণই হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে।