পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর আত্মহত্যার অভিযোগ ঘিরে চলা বিতর্কে এবার নয়া মোড়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোর করে বয়ান রেকর্ডের বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিন ছাত্রী। তাঁদের দাবি, নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ওই তিন ছাত্রীকে দিয়ে জোরপূর্বক বয়ান রেকর্ড করানো হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়াই সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার থেকে ছাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্নে চণ্ডীগড়ের ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা জাতীয় সড়কও অবরোধ করেন। এই ডামাডোলের মাঝেই কলেজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে তিন নম্বর হস্টেলের ৫০৪ নম্বর ঘরে থাকা তিন ছাত্রীকে বলতে শোনা যায় যে, তাঁরা গত দু’মাস ধরে ওই ঘরে থাকছেন এবং সেখানে গণধর্ষণের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের কাছে তাঁদের অযথা বিরক্ত না করারও অনুরোধ জানানো হয়। মূলত ক্যাম্পাসে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো, তা প্রমাণ করতেই কর্তৃপক্ষ এই ভিডিওটি প্রচার করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই তিন ছাত্রী অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনেই তাঁদের ওই কথা বলতে হয়েছিল। অনুমতি ছাড়া ভিডিওটি জনসমক্ষে আসায় তাঁরা প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছেন। যদিও ছাত্রীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ক্যাম্পাসের ভিতর এক ছাত্রীর গণধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হতেই কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি নির্যাতিতাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এর কয়েকদিন পর ওই ছাত্রীর রুমমেটের মাধ্যমে তাঁর আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। শনিবার রাতে হাজারো পড়ুয়ার বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত ১০ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিট গঠন করলেও, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি।